ঢাকাশনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • অন্যান্য
বিজ্ঞপ্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ

নিত্যবেলা প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২১, ২০২৫ ৬:৩২ অপরাহ্ণ
link Copied

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ মহিমের বিরুদ্ধে ইয়াবা উদ্ধারের নামে মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে,  অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা বিক্রির জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন এসআই ফরহাদ মহিম। এই নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানালে সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের দেওয়া  হয়েছে মামলার হুমকি।

২০২২ সালে বোরহান উদ্দিন নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচিত হন এসআই মহিম। থানায় জব্দ করা ইয়াবা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয় বোরহানকে। এসআই মহিমের নির্দেশে নির্দিষ্ট মাদক কারবারিদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়া ছিল বোরহানের কাজ। বিনিময়ে তাকে দেওয়া হতো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। কাজ শেষ হলে বোরহানের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন এসআই মহিম নিজে। অভিযোগ রয়েছে, বাকলিয়া থানা এলাকায় আরও অনেক মাদকসেবী ও কারবারিকে একইভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালের ২৫ মে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (সিকিউরিটি সেল) বরাবর ডাকযোগে একটি লিখিত অভিযোগ করেন বোরহান উদ্দিন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, এসআই ফরহাদ মহিম তার মাধ্যমে ইয়াবা বিক্রির সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন। প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটি তিন মিনিটের অডিও ক্লিপেও এসআই মহিমের সঙ্গে ইয়াবা বিক্রির কথোপকথনের প্রমাণ রয়েছে।

২০২৩ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের এক আদেশে এসআই মহিমকে বাকলিয়া থানা থেকে চকবাজার থানায় বদলি করা হয়। তবে ছয় মাস পর আবারও তিনি বাকলিয়া থানায় যোগদান করেন। জানা গেছে, এসআই মহিমের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়ায়।

এসআই মহিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেউ হয়তো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, “সম্প্রতি এসআই ফরহাদ মহিম এখানে যোগদান করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছি। আমি থানায় নতুন যোগ দিয়েছি, তাই বিস্তারিত খোঁজ নিতে হবে।”এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) নূরে আলম মাহমুদ বলেন, “এসআই মহিমের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশ অনুযায়ী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”

এসআই ফরহাদ মহিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর বাকলিয়া থানার মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।