ঢাকাশুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য
বিজ্ঞপ্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফুলপুরে পরীক্ষার কেন্দ্রে অনিয়ম: অফিস সহকারীকে ‘শিক্ষক’ দেখিয়ে দায়িত্ব প্রদান

 নিজস্ব প্রতিবেদক :
এপ্রিল ২৪, ২০২৫ ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
link Copied

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ এপ্রিল ফুলপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে সংশ্লিষ্টদের আগামী পাঁচ বছরের জন্য যেকোনো পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

একজন অফিস সহকারী কীভাবে পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত হলেন তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অবশ্যই শিক্ষক হবেন এবং বোর্ডের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হবে। অথচ গোলাম রিজওয়ান নামের একজন ব্যক্তি, যিনি শিক্ষক নন বরং একজন অফিস সহকারী, তাকে পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এটি থেকেই স্পষ্ট যে, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনায় বড় ধরণের অনিয়ম ঘটেছে।

 

এ বিষয়ে কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘তারা আমার কাছে নিজেদের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। আমি প্রতারিত হয়েছি। আমি জানতাম না যে তাদের মধ্যে একজন অফিস সহকারী ছিলেন। ঠাকুর বাখাই ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানান।’

 

এ বিষয়ে ঠাকুর বাখাই ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমার তিন শিক্ষককে পাঁচ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে—এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি কোনো লিখিত অভিযোগও পাইনি। আমার বিদ্যালয়ের ৩১ জন পরীক্ষার্থী ছিল। আমি দুইজন শিক্ষক পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু গোলাম রিজওয়ান কীভাবে পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করলেন তা আমার জানা নেই।’

 

অন্যদিকে অভিযুক্ত অফিস সহকারী গোলাম রিজওয়ান (ফরহাদ) বলেন, ‘আমি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। তারপরও আমাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলার মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার পরিতোষ সুত্রধর বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। একটি ছবিতে তিনজনের একজন অফিস সহকারী ছিলেন, তা আমরা দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষককে ডেকে জবাবদিহির জন্য বলা হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, ‘আমি তিনজনকে দায়িত্বে পেয়েছি এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে কক্ষপরিদর্শকদের পাঁচ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এখানে যে একজন অফিস সহকারী ছিলেন তা আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে দায়ভার কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষকের।’