ঢাকাশুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য
বিজ্ঞপ্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাজীপুরে গেষ্ট হাউজের নামে অভিনব কায়দায় চালু হলো পতিতালয়

মো: মোজাহিদ
মার্চ ১৪, ২০২৪ ৪:৪১ অপরাহ্ণ
link Copied

গাজীপুরের জয়দেবপুর থানা সংলগ্ন ও গাজীপুর সদর প্রেসক্লাবের সাথে গেস্ট হাউজের নামে পতিতালয় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ ২০২৪) সরেজমিনে দেখা যায় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে হোতাপাড়া তেল পাম্প সংলগ্ন তন্ময় মার্কেটের ২য় ও ৩য় তলা একটি গেষ্ট হাউজ করা হয়েছে। সেখানে প্রেমিকা নিয়ে রুমভাড়া নেয়া যাচ্ছে। টাকা দিলেই মিলবে পতিতা। থানা পুলিশের ঝামেলাও নেই বলে দাবি করছে গেষ্ট হাউজের দায়িত্বে থাকা আব্দুল হক নামের একজন।

তিনি বলেন, থানা পুলিশকে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে ম্যানেজ করেই গেষ্ট হাউজটি চালু করা হয়েছে। আপাতত প্রতি ঘন্টায় ৩ হাজার টাকা দিলে যে কেউ এখানে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। তবে পতিতা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইল নম্বর নিয়ে যান, ফোন করে রাতে বেলায় চলে আসতে পারবেন। তবে পতিতার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গেষ্ট হাউজের ম্যানেজার মিলন। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ ফ্রেশ গেষ্ট হাউজ। এখানে নারীদের স্থান নেই। শুধু পুরুষদের এনআইডি কার্ড নিয়ে ভাড়া দেয়া হয়।

গেষ্ট হাউজ প্রসঙ্গে গাজীপুর সদর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এশিয়ান টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবু বকর ছিদ্দিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘হোতাপাড়া গেষ্ট হাউজ’ নামে একটি পতিতালয় চালু করা হয়েছে। যার উদ্বোধন হয়েছে রমজানের একদিন আগে, আমরা তার ধিক্কার জানাই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এই অজ পাড়া গাঁয়ে পতিতালয়টি যেন বন্ধ হয়। সবার সহযোগিতা কামনা করছি। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই গেষ্ট হাউজ নামের পতিতালয়টি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।

এদিকে উদ্বোধনের পর থেকেই গেস্ট হাউজটিতে গোপনে গভীর রাতে পতিতাবৃত্তি চলছে বলে নিশ্চিত করেছে গেষ্ট হাউজের একজন কর্মচারী। আবাসিক হোটেলের জন্য যে-সকল লাইসেন্স বা কাগজপত্র প্রয়োজন তার কোনটিই নেই হোতাপাড়া গেষ্ট হাউজের। রাত গভীর হলেই এখানে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। এতে স্থানীয় উঠতি বয়সের তরুণ, তরুণীরাও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

গেষ্ট হাউজের কর্মচারী আব্দুল হক আরো বলেন, পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলছে গেষ্ট হাউজটি। তবুও যদি কখনো অভিযান পরিচালনা করা হয়, তবুও সমস্যা নেই। আমাদের রয়েছে গোপন দরজা। পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুব্যবস্থাও রয়েছে। প্রেমিক প্রেমিকারা আসলে আমরা ৩য় তলায় থাকতে দিবো, সেখান থেকে পেছনের দরজা দিয়ে বের হওয়া অনেক সহজ। এখানে আসলে ঝুঁকির কোনো সম্ভাবনা নেই, রয়েছে শতভাগ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আমরা রমজান মাসের কারণে খুব ভালোভাবে চালু করিনি, তাছাড়া এখন গেস্টও কম। তাই ঈদের পর থেকে ভালোভাবে চালু করবে মালিকপক্ষ। তাছাড়া পুলিশ ও চাইছে এটা ভালোভাবে চালু হোক, চালু হলে তারাও খুব ভালোভাবে লাভবান হবে। বর্তমানে প্রশাসন কোনো সমস্যা না, এলাকার কয়েকজন ডিস্টার্ব করছে, এটা ম্যানেজ করলেই সবকিছু উন্মুক্তভাবে চলবে

এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল হক জানান, এসব বিষয় মোবাইল কোর্টে বিচার্য নয়। জয়দেবপুর থানার ওসিকে বিষয়টি দেখতে বলেছি’। জয়দেবপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ ইবরাহীম খলিল বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।