ঢাকাশুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য
বিজ্ঞপ্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা:

বিএনপি নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিত্যবেলা প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৪ ১:২৫ অপরাহ্ণ
link Copied

গাজীপুরে চুরির অপবাদে নির্মাণ শ্রমিক মো. ইসরাফিলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা কামরুল হাসান লিটনকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের নামে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্রীপুর থানায় ইসরাফিলের বাবা নাসির উদ্দিন মামলাটি করেছেন।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে প্রথমে পিটিয়ে ও পরে গায়ে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয় ইসরাফিলকে। এরপর থেকেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। সেখানেই বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তার মৃত্যু হয়।

নিহত নির্মাণ শ্রমিক মো. ইসরাফিল (২৪) শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি গ্রামের মো. নাসির উদ্দিনের ছেলে।

মামলার প্রধান আসামি কামরুল হাসান লিটন (৫০) শৈলাট গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

নিহতের স্বজনরা জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল ইসরাফিল। হঠাৎ কিছু লোক তাকে ডেকে তুলে মসজিদের চুরি যাওয়া ব্যাটারি সম্পর্কে জানতে চায়। পরে চুরির অপবাদে তাকে বাড়ির অদূরে শৈলাট পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে তাকে নির্যাতন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা কামরুল হাসান লিটন ও তার লোকজন। লোহার রড দিয়ে পায়ের পাতা থেকে শুরু করে পিঠ পর্যন্ত পেটানো হয়। পরে কোমরের নিচে গরম পানি ঢেলে দেয়। গরম পানিতে যুবকের দুই পায়ের পাতা থেকে কোমর পর্যন্ত ফোসকা পড়ে যায়। এমন অবস্থায় নির্যাতনকারীরা ইসরাফিলের বুকে, পেটে, পিঠে লাথি মারতে মারতে চোর পেটানোর উৎসব শুরু করে, করতে থাকে উল্লাস। এ সময় নিহতের কোন স্বজনদের কাছে যেতে দেয়নি। তারা কাছে যেতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকিধামকি দিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর গাজীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান লিটন, বাবুল মণ্ডল ও শফিকুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মো.ইসরাফিলের বাবা। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, কামরুল হাসান লিটনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন ইসরাফিলের ওপর ওই নির্যাতন চালান।

নিহতের বাবা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে পানি পান করতে চেয়েছিল, তার জীবনটা ভিক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু জীবন ভিক্ষা তো দূরের কথা- তারা পানি পর্যন্ত খেতে দেয়নি। আমরা এত চেষ্টা করেছি তবুও নির্যাতনকারীদের মন গলাতে পারিনি।’

এদিকে ভুক্তভোগী মারা যাওয়ার পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়েছে। কামরুল হাসান লিটনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, ইসরাফিল নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’