একজন তরুণ প্রজন্মের আইকনিক নেতা সম্পর্কে আমার এই লেখা। আইকনিক নেতা বলার কারণ হলো, একজন নেতার চলন, বলন, জীবন যাপন পদ্ধতি, চেতনা, বিশ্বাস, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ, রাজনৈতিক দর্শন এবং চারিত্রিক গুণাবলি যখন নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে ওঠে তখন সেই নেতাকে আইকনিক নেতা বলা হয়। একজন নেতা হলেন একজন শিক্ষক, কিংবা বলা যায় একজন পথ নির্দেশক। একজন নেতাই পারেন একটা জাতিগোষ্ঠীর ভেতর বাহির সবদিকে আমূল-পরিবর্তন নিয়ে আসতে।
আইকনিক নেতার আবির্ভাব ঘটে যুগে যুগে। যাদের হাতে সমস্ত নষ্ট ভ্রষ্ট জরাজীর্ণ সিস্টেমের আমূল-পরিবর্তন ঘটে। এমন নেতার আবির্ভাব ঘটে সময়ের প্রয়োজনে। প্রকৃতির খেয়ালে। তবে সমসাময়িক জনগোষ্ঠী সহজে সেই নেতাকে চিনতে পারেননা। সেই নেতা নিজের যোগ্যতার পরিচয় তুলে ধরেন তার কর্মমুখর পথচলার মাধ্যমে। আর আমরা যারা সমাজ পরিবর্তনের এবং মানুষের বাসযোগ্য পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি, আমাদের উচিত সেই নেতাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া। যাতে করে মানুষ তাকে ধারণ করতে পারে, নিজেদের প্রয়োজনে তাকে পাশে পেতে পারে। যাতে করে নিজেদের যোগ্যতম মানুষটিকে নেতা হিসাবে বেছে নিতে পারে।
একটি জনপদের বেশির ভাগ মানুষ যখন জ্ঞানী হয়, সুশিক্ষিত হয়। এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করে। তখন সেই জনপদে সঠিক নেতার আবির্ভাব ঘটে। অর্থাৎ সঠিক এবং শুদ্ধ মানুষকে নেতা নির্বাচন করে সেই ভূখণ্ডের মানুষ তাদের নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন আনতে পারে। তাহলে বিষয়টা কি দাড়ালো?
দাড়ালো, একজন নেতার আবির্ভাব হলেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়, সেই নেতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে জনগনকে। যেহেতু আমাদের নির্বাচনী সিস্টেম হলো গণ ভোট, সেহেতু সেই নেতাকে গণভোটের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচিত হতে হবে। আর সেই নির্বাচনে জনগণকে তাদের প্রকৃত নেতাকে চিনতে হবে, জানতে হবে, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাকে ভোট দিতে হবে।
আগামী ২১ শে মে ২০২৪ তারিখে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছেন। শ্রীপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু গাজীপুর ৩ আসনের এমপি ইতিমধ্যে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সেহেতু সঙ্গত কারণেই তিনি ব্যস্ত থাকেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আসার চেষ্টা করেন। এই চেষ্টা আরও সফল হবে যদি একই মতাদর্শ এবং চিন্তা চেতনা সম্মৃদ্ধ একজন তরুন এবং কর্মঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। আর সেই চেয়ারম্যান যদি হয় সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং মানুষের দুঃখ কষ্ট ছুয়ে দেখার মতো গণমূখী নেতা। তবেই জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটবে। মানুষের চাওয়া পাওয়া এবং প্রত্যাশা পূরণ হবে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি একক কোনো প্রার্থীকে প্রমোট করার জন্য এই লেখাটি লিখবো এমনটা উদ্দেশ্য ছিলো না। তবে যতগুলো প্রার্থীর নাম আমি তালিকায় দেখেছি, তাদের মধ্যে আমি সেই কাঙ্ক্ষিত আইকনিক একজন নেতার নামও দেখেছি। আমি যা চাই, যেমনটা চাই, যেভাবে চাই, অতীতের সময়গুলোতে এই তরুণ যুব নেতাকে সেভাবেই পেয়েছি। আপনারা জানেন, আমার চাওয়া মানে আমার ব্যক্তিগত চাওয়া নয়। আমার চাওয়া আমার এলাকার গণমানুষের জন্য চাওয়া। আর তাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি যার কথা বলছি, আপনারা নিশ্চয়ই তাকে চিনতে পারছেন। আমি আপাতত তার নাম বলবোনা, শুধু মাত্র সেই তরুণ নেতার কিছু কর্মকাণ্ড সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। যেসব কর্মকাণ্ডের সাথে কোনোনা কোনো ভাবে আমার সম্পৃক্ততা ছিলো, শুধু সেগুলোই বলবো। যদিও এসবের বাইরেও তিনি অসংখ্য জনহিতকর কাজ করে চলেছেন।
বছর খানেক আগের কথা। যারা আমার সাথে ফেসবুকে যুক্ত আছেন, তাদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে। গত বর্ষাকালের ঘটনা। একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম, যেখানে দেখা যাচ্ছিলো বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি ঝরছে, একটা টিনের চালায় অসংখ্য ফুটো, সেই সব ফুটো দিয়ে ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ছে। বিছানা পত্র সবকিছু ভিজে একাকার। থালা বাসন পেতে রাখা হয়েছে ঘরের সব জায়গায়, যাতে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আমি লাইভ ভিডিও করেছিলাম, বলে ছিলাম, সামর্থ্যবান কেউ যেন সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ভিডিও প্রকাশের ১০ মিনিটের মধ্যে আমার নাম্বারে একটা ফোন এলো। তিনি ঢাকায় তখন কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্য্যালয়ে ছিলেন। সেখানে বসেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। বাকী গল্প সকলেই কমবেশি অবগত আছেন। পরিবারটি একটি নতুন ঘর পেয়েছিলো, পেয়েছিলো আর্থিক সহযোগীতা।সেই পরিবারটির দায়িত্বও তিনি নিয়েছেন, এখনো যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করে চলেছেন।
বন্যার সময়টাতেও তিনি দলবল সহ ছুটে গেছেন বানভাসি মানুষের কাছে। নেত্রকোনা অঞ্চলের পানি বন্দী মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা দিয়েছেন।
করোনা কালীন সময়ের প্রায় পুরোটাই আমি কারাগারে ছিলাম, তাই তাঁর সেসময়কার কর্মসূচীতে আমি সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। তবে জেল থেকে বের হয়ে তাঁর কর্মসূচীগুলো দেখেছি, শুনেছি, আবেগে আপ্লূত হয়েছি। মানুষের দুর্ভোগ চিন্তা করে বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন দিনের পর দিন। তখনই মনে হয়েছে এই তরুণ যুব নেতাকে আটকে রাখা যাবেনা। বহুদূর যাওয়ার জন্য তিনি এসেছেন, মানুষের মন জয় করতে এসেছেন, মানুষকে ভালোবাসতে এসেছেন। মানুষের ভালোবাসা জিতে নিতে এসেছেন। প্রতিদিন তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সফলতার সাথে এগিয়ে চলেছেন।
বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে গাজীপুর জেলা যুবলীগ এখন সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং কার্যকর যুব সংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ হলো তাঁর সাংগঠনিক কর্মপন্থা। একজন দক্ষ সংগঠক তিনি। যাই হোক, রাজনৈতিক বিষয় আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আমার উদ্দেশ্য হলো একজন স্বপ্নবাজ তরুণ নেতার সাথে আমার পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেয়া।
স্বপ্নবাজ তরুণ তিনি। তিনি স্পষ্টভাসী, বলিষ্ঠ বক্তা। তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার, তিনি স্বপ্ন দেখেন সরকারের সুফল যেন জনগণের কাছে নির্বিঘ্নে পৌঁছে যেতে পারে, তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি সুখী সম্মৃদ্ধ শ্রীপুর উপজেলা গঠনের। তিনি স্বপ্ন দেখেন বৈষম্যহীন এক সমাজের। তিনি স্বপ্ন দেখেন সকলকে নিয়ে ভালো থাকার, তিনি স্বপ্ন দেখেন ক্ষুধা এবং দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার। তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের শুরুটা করতে চান নিজের জন্মভূখন্ডকে আলোকিত করার মাধ্যমে।
সাম্প্রতিক সময়ের কথা বলছি। পবিত্র রমজানে তিনি অনুকরণীয় কিছু দৃষ্টান্ত মূলক কাজ করেছেন। রমজানের পুরো সময়টাতে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করেছেন। শুধু তাই নয়। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের আসপাড়া মোড়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে সেখানে ন্যায্য মূল্যের দোকান খুলে বসেছেন। দ্রব্য মূল্য যখন আকাশচুম্বী, তখন তিনি তাঁর কর্মীদের নিয়ে বাজার দরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কমে জনগণের হাতে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছেন। এতেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বাজারে ৮৫০ টাকার গরুর মাংস কিনতে গিয়ে মানুষ যখন দিশেহারা, তখন তিনি ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করে সর্ব মহলে সমাদ্রিত হয়েছেন। প্রশংসনীয় কাজ করে চলেছেন তিনি এভাবেই, প্রতি নিয়ত, প্রতি মুহূর্তে।
এতোক্ষণ ধরে যার কথা বলছি, নিশ্চয়ই আপনারা তাকে চিনে ফেলেছেন। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। “চলে বদলে দেই” শ্লোগান দিয়ে তিনি তরুণদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। যাত্রা শুরু করেছেন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। তিনি হলেন ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সজীব। পেশায় তিনি একজন ব্যারিস্টার, আইন আদালতের মানুষ হলেও তিনি মূলত একজন রাজনীতিবিদ। রাজনৈতিক পরিবারে তার জন্ম এবং রাজনৈতিক বলয়েই বেড়ে ওঠা। তাঁর চাচা ছিলেন বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন। সাবেক সফল সাংসদ মরহুম এডভোকেট রহমত আলী মহোদয়ের ঘনিষ্ঠ জন ছিলেন তিনি। বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ । ওনার নিজ এলাকায় সবাই যাকে চেনেন ‘হারিছ উকিল’ নামে। সজীবের পিতাও একজন জনপ্রতিনিধি, বর্তমানে শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বড় ভাইও রাজনৈতিক নেতা। রাশিদুল ইসলাম রাজীব, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সজীব কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য এবং গাজীপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসাবে যুবলীগের সাংগঠনিক কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন সফলতার সাথে। অর্থাৎ তিনি জন্মগতভাবে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। তাই, দেশপ্রেমের দীক্ষা এবং জনগণের সেবার শিক্ষা তিনি পারিবারিক ভাবেই পেয়েছেন।
ভোটের রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজ বলে একটা বিষয় রয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের জয়জয়কার হয়েছে সারা দেশে। এমনকি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রুমানা আলী টুসি এমপির বিজয়ের মূলে ছিলো ক্লিন ইমেজ প্রসঙ্গ। সে বিষয়ের আলোকে বলা যায় ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সজীব একজন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী। যে কারনেই তিনি একধাপ এগিয়ে থাকবেন অন্যদের চেয়ে।
ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সজীব শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় ছিনিয়ে নিলেও অবাক হবোনা আমরা । এমন সুশিক্ষিত এবং মেধাবী রাজনৈতিক নেতার আবির্ভাব এই জনপদের মানুষের জন্য আর্শীবাদ বয়ে আনবে, এমনটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা তাঁকে সাধুবাদ জানাই। আমরা চাই, শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের দীর্ঘ সময়ের জরাজীর্ণ সিস্টেমের পরিবর্তন হোক, আলো আসুক, ভালো কিছু হোক।
আনোয়ার হোসেন
সংবাদকর্মী এবং অনুসন্ধানী লেখক।
