গাজীপুরের শ্রীপুরে বনভূমি দখল ও গ্রামীণ পুরনো রাস্তা কেটে পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আ. আউয়াল ২০-২৫ বিঘা জমি কিনে খামার গড়তে পঞ্চাশ বছরের পুরনো রাস্তা অবৈধভাবে কেটে বনের ভেতরে প্রবেশ করাচ্ছেন। রাস্তা কাটা ও গাছপালা ধ্বংসের কারণে দুই গ্রামের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।সম্প্রতি উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিংদিঘী গ্রামের নিরঞ্জন চালা এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়।স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, খামার মালিক প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় রাস্তার গতি পরিবর্তন করে গজারি বনের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন। ঠিকাদার রাস্তার মাটি কাটার পাশাপাশি সরকারি কালভার্টের পাইপও তুলে নিয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ ও বন বিভাগের আপত্তি সত্ত্বেও কাজ চলতে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলমাছ মিয়া জানান, এটি বহু পুরনো রাস্তা। ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে মাটি কেটে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে আংশিক ইটের সলিং করা হয়। তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ পূর্বে ওই খামারের সামনে সড়কের একটি অংশ ইটের সলিং করা হয়। রাস্তাটি সিংদিঘী ও হাঁসিখালী দুটি গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। এ রাস্তা কাটার কোন সুযোগ নেই।
রিভার অ্যান্ড ন্যাচার ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম বলেন,বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনভূমি দখলে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। আবার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অনেক কোম্পানিও বড় অঙ্কের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বনের জমি দখল করে নিয়েছে। বনের জমি দখল হওয়ায় উজাড় হচ্ছে বন, ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ, হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী ও কীটপতঙ্গ। বনভূমি উজাড় হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। অথচ এই আগ্রাসন ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বন বিভাগের। এ অনৈতিক কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কাজ বন্ধের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।
নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল বলেন, যারা বন ধ্বংস করে উন্নয়ন করে তারা আগামী প্রজন্মের শত্রু। এরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেশের সম্পদ লুট করছে। আমাদের বন আমাদের রক্ষা করতে হবে বনদস্যুরা যতই শক্তিশালী হোক। লেখক ও পরিবেশকর্মী সাঈদ চৌধুরী জানান,আশ্চর্য হতে হয় একারণে যে এ সময় এসেও বনের ভেতর রাস্তা করার সাহস পায়। বন দখলের পায়তারা এটি। শুধু কাজ বন্ধ নয় দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ চাই। নইলে এর বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াবো।
শ্রীপুরের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.মুখলেছুর রহমান জানান, বনের ভেতর রাস্তা প্রবেশের সুযোগ নেই। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আক্তার হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। বাঁশ- খুঁটি অপসারণ করেছি। তাদেরকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাহার শাকিল নিত্যবেলাকে জানান, বিষয়টি জেনে উপ-সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। কাগজপত্রসহ অভিযুক্তদের তলব করেছি। তদন্তে সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ নিত্যবেলাকে বলেন, উপ-সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকা বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) বশিরুল আল মামুন নিত্যবেলাকে বলেন, আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। আন্তরিক ধন্যবাদ। স্থানীয় রেঞ্জকর্মকর্তাকে নির্দেশ দিচ্ছি সরেজমিনে দেখে তথ্যের সত্যতা পেলে কাজ বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। বক্তব্য জানতে খামারের মালিক আ.আউয়ালকে ফোন করলে তিনি রিসিভড করেননি।
