ঢাকাশুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য
বিজ্ঞপ্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পিটার হাসকে নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা : জন কিরবি

নিত্যবেলা প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ৭, ২০২৩ ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
link Copied

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন বলে রাশিয়া যে অভিযোগ করেছে তা ‘উন্নতমানের রুশ প্রোপাগান্ডা’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কৌশলগত যোগাযোগবিষয়ক সমন্বয়কারী জন কিরবি।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটনের ফরেন প্রেস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জন কিরবিকে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, মস্কো সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। আপনি জানেন, রাষ্ট্রদূত পিটার হাস (বাংলাদেশে) অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিতের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বাংলাদেশে তার নিরাপত্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে সহিংস বক্তব্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে রাশিয়া ও বাংলাদেশে তার (পিটার হাস) নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

জবাবে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কৌশলগত যোগাযোগবিষয়ক সমন্বয়কারী বলেন, ‘আমি আপনাকে বলতে চাই যে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাশিয়ানরাও জানে যে এটি মিথ্যা। এটি কেবল উন্নতমানের রুশ প্রোপাগান্ডা। বাংলাদেশের জনগণ যা চায়, আমরাও তা-ই চাই এবং তা হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত (পিটার হাস) এবং তার টিম আগে যেভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেইভাবে তারা বাংলাদেশের সুশীল সমাজ, বিরোধী দল ও সরকারসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন। বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে যেন সম্মান করা হয় তা নিশ্চিতে তাদের কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত থাকবে।’

অপর এক প্রশ্নে জন কিরবির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের ‘স্বৈরাচারী’ প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করার বিষয়ে একই পক্ষে রয়েছে ভারত, চীন ও রাশিয়া। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও আরেকটি একতরফা নির্বাচন আয়োজনে বিরোধীদের ওপর ক্র্যাকডাউন ও তাদের জেলে ঢোকানোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা কি আপনাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন; যেমনটা আপনি আগে বলছিলেন যে আপনারা বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন?

এর জবাবে জন কিরবি বলেন, ‘বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক সেটা আমাদের চাওয়া এবং তা বাস্তবায়নে আমরা কাজ চালিয়ে যাব। অন্য কোনো দেশের নির্বাচনে আমরা কোনো পক্ষ নিই না। বাংলাদেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই নীতির পরিবর্তন আসবে না। আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সমর্থন করি। আমরা সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখব। রাষ্ট্রদূত (পিটার হাস) এবং তার টিমও বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক প্রত্যাশার দাবি পূরণে যা করার দরকার তা করবেন।’

এর আগে, গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, আমরা বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই এবং আমাদের নীতি এটিই থাকবে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে এটিই আমাদের মূল বিষয় হিসেবে রয়েছে।’

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে করা অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল বা গত কয়েক দিনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। সেই প্রতিবেদনে যা আছে তা ছাড়া আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।’

তার আগে ৪ ডিসেম্বর নির্বাচন নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, ‘আমি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনুমান করতে যাচ্ছি না। আমি তাই বলব, যা আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি। আমরা বাংলাদেশি জনগণের স্বার্থে দেশের সরকার, বিরোধীদল, সুশীল সমাজ এবং সব অংশগ্রহণকারীকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আহ্বান জানাতে থাকব।’