দাহকালের চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। এমন কঠিন মন্তব্য করে লেখাটি শুরু করার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। বিজয় দিবসের লেখায় নেতিবাচক বার্তা দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। তবুও দিতে হচ্ছে। টেবিলে সাজানো বাহারি খাবারের আয়োজন, কিন্তু এই খাবার স্বাস্ব্যের জন্য কতোটা উপকারী তা নিশ্চয়ই ভাবতে হবে। অল্প খাবার হোক, সস্তায় কেনা খাবার হোক তবুও তা হোক মানব স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর। জীবন যেন নিরাপদ এবং সুখকর হয়, সেটাই কাম্য হোক আমাদের।
আজকের মাথা উঁচু করে দাড়ানো বাংলাদেশের নাগরিক আমি। আমার গর্ব করার মতো অনুষঙ্গ অনেক কিছু রয়েছে। ৫২ তম বিজয় দিবসে দাঁড়িয়ে সফলতা অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ আকার ধারণ করেছে। নাগরিক হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে স্মার্ট বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি।
ডিসেম্বর এলেই চেতনার বাজার বসে চারপাশে। অবহেলিত স্মৃতিসৌধের চর্চা শুরু হয়, বধির কালা বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায়ের দখলে থাকে মঞ্চগুলো। ভন্ডদের আসরে আঁতেল কবিদের চুলের ঝুঠি নাচানাচি করে। সারি সারি ধূলোপড়া বইয়ের বুক শেল্ফ প্রদর্শন দেখা যায় নব্য দোকানীর সংগ্রহে। গড়ল ইতিহাস লিখে মূর্খদের আসর মাতানো ফাউল মানুষেরও কদর বেড়ে যায়। আহা, আমার স্বাধীন স্বদেশ।
৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এদেশে স্বাধীনতা এসেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে। একটি গর্বিত জাতির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বিশ্ব দরবারে, বিশ্ব মানচিত্রে আরেকটি স্বাধীন মানচিত্র আকাঁ হয়েছে ৫৬ হাজার বর্গমাইল। স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যারা পরাজিত হয়েছে একাত্তরে, তারা রাজাকার, আলবদর নামে পরিচিত।
তাদের পথ এবং এদেশের মানুষের পথ এক নয়, আলাদা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেল এবং জলের মতো, অবস্থান এক পাত্রে হলেও দুটো আলাদা উপাদান। বিষয়টা এমনই। ওরা এদেশের নাগরিক হতে পারে, কিন্তু চেতনা, বিশ্বাস এবং আদর্শে আমাদের সাথে ওদের মিলবেনা কখনো। তাদের সাথে আমাদের জাতিগত শত্রুতা। এই শত্রুতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলমান থাকবে, থাকতে হবে।
দেশের নাগরিক হলেও, এদেশের প্রতি ওদের ভালোবাসা থাকবেনা। দেশপ্রেম থাকবেনা, দেশের কল্যাণ চিন্তা ওদের চিন্তা চেতনায় স্থান পাবেনা। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং পরীক্ষিত বিষয়। দেশের গান, গানের সুর এদের বিরক্তির কারণ, জয় বাংলা শ্লোগান ওদের কর্ণধারে বধিরতা সৃষ্টি করে। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা ওরা সহ্য করতে পারেনা। চেতনার বধিরতা রোগে ওরা জন্ম থেকে আক্রান্ত। ওরা জন্মগত অসুস্থ!
এই সকল রাজাকারের সন্তানের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়ে চলেছে। দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তারা নিজেদের কব্জা করে নিয়েছে। এখনো নিচ্ছে। দেশ বিরোধী অপশক্তি হিসাবে তাদের অনেকের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে, বেশির ভাগের মুখোশ উন্মোচন সম্ভব হয়নি। হবে বলেও মনে হচ্ছে না। কারন হলো, স্বাধীনতার ৫২ বছরেও দেশের শত্রু মিত্রদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অসংখ্য রাজাকারের সন্তান জায়গা করে নিয়েছে। সেই সাথে ওরা মিডিয়া কিনে নিয়ে তাদের ইতিহাস বিকৃত করে নতুন করে ইতিহাস বানিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। কেউ কিছু বলছেনা! কারো যেন কোনো দায় নেই, শহীদদের রক্তগঙ্গা এবং মা বোনের সম্ভ্রমের যেন কোনো মূল্য নেই। স্বাধীনতা যেন গাছে ধরে ছিলো একাত্তরে! আসলেই কি এমন? কিছু বলার নেই কারো?
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রাজাকারের সন্তানেরা কিভাবে প্রবেশ করলো? কারা ওদের মদদ দিয়েছে? এসব প্রশ্ন করে লাভ নেই, করতেও চাইনা। তবে এই প্রজন্মের আওয়ামী লীগের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই!
প্রশ্ন- আওয়ামী লীগের রাজনীতি চলবে রাজাকারের সন্তানদের হাতে, বঙ্গবন্ধু কি এমনটা চেয়েছিলেন? না কি আপনি এমনটা চান? স্মার্ট বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের রাজনীতি কিভাবে স্মার্ট হবে যদি রাজাকারের সন্তানেরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত এবং প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে? ভেজাল আওয়ামী লীগ কিভাবে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করবে?
প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলছেনা ৫২ তম বিজয় দিবসে। বিষয়টা ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে আমাদের। স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য যেমন স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলতে হবে। তেমনি স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলতে হলে দেশের রাজনীতিকে স্মার্ট করতে হবে। এজন্য সময়ের প্রয়োজনেই গড়তে হবে “স্মার্ট আওয়ামী লীগ।” নির্বাচনে সফলতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শুদ্ধিকরণ অভিযান চালিয়ে নষ্ট রাজাকার প্রজন্মকে বিতাড়িত করা। এটাই এইসময়ে আওয়ামী লীগের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্মার্ট আওয়ামী লীগ স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ( পর্ব – ১)
আনোয়ার হোসেন
গণমাধ্যমকর্মী, সংগঠক এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।
Mail : Anwar8637@gmail.com
