মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সনের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ২০ নম্বর ব্যারাকের বারান্দায় ছাত্র-জনতার মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন ভাষা সৈনিক আবুল বরকত। পুলিশের গুলিতে তিনি পেটে গুলিবিদ্ধ হন এবং মুহূর্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।
আবুল বরকতের জন্ম ১৯২৭ সনের ১৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বারলা গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের ৭৩ বছর পরও তাদের পরিবারের সদস্যরা আজ অবহেলার শিকার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আগে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই ভাষা শহীদদের পরিবারের খোঁজ নেওয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র বদলে গেছে। এমনকি একুশে বইমেলা এবং রাষ্ট্রীয় নানা অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের পরিবারের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না।
২০ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ আবুল বরকতের ভাতিজা আইনউদ্দিন বরকতের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে একবারও তাদের পরিবারের খোঁজ নেয়নি কেউ। তিনি অভিযোগ করেন, জয়দেবপুরে আবুল বরকতের নামে থাকা একটি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করার চেষ্টা এবং বরকতের মায়ের কবরের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
আইনউদ্দিন বরকত আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২০ হাজার টাকা ভাতা বরাদ্দ থাকলেও ভাষা শহীদদের পরিবার মাত্র ১০ হাজার টাকা করে পেত। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দাবি জানানো হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। উল্টো ভাষা শহীদ পরিবারের সদস্যদের অসম্মান করা হয়েছে এবং অভিযোগ জানালে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তাদের পরিবারের প্রতি অবহেলা অব্যাহত রয়েছে। এখনও কেউ তাঁদের খোঁজ নেয় না। গত ১৭ বছর ধরে বরকতের পরিবারের সদস্যরা কোনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাননি, এমনকি সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণও পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভগ্নিপতি আজহার আলী একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলেও শুধুমাত্র আবুল বরকতের পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেননি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক।
