শিল্প নগরী গাজীপুর। সবুজ শিল্পে ভরপুর এ জেলায় এখনো অনেকের মাঝে তৈরি হয়নি স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রবণতা। তবে মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন তো আর থেমে নেই। বিভিন্ন সময় রোগীকে বাঁচাতে রক্তের জন্য দ্বারে দ্বারে ছুতে বেড়াতে হয় স্বজনদের। বিপদগ্রস্ত সেইসব রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার একদল সেচ্ছাসেবক।
প্রথম অবস্থায় নিজেরাই দলবদ্ধ হয়ে রক্তদানের কাজ করলেও ২০২৩ সালের পহেলা মে ‘কোনবাড়ি বাসী ব্লাড ফাউন্ডেশন’ নামে আত্মপ্রকাশ করার পর ঐ সংগঠনটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। যার মাধ্যমে বর্তমানে অর্ধশতাধিক সেচ্ছাসেবক নিজেরা নিয়মিত রক্তদান করে যাচ্ছেন পাশাপাশি রক্তের যোগান ও দিচ্ছেন।
কোনবাড়ি বাসী ব্লাড ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা মো. আবু সায়েম নিত্যবেলাকে জানান, “আমাদের রক্তদান কর্মসূচি শুরু হয় পহেলা মে ২০২৩ সালে এবং এর পরিকল্পনা হয় ২০২২ এর অগাস্টের দিকে কারণ তখন কোনাবাড়ী তথা গাজীপুরে সেচ্ছায় রক্তদান করে এমন কোনো সংগঠন ছিলো না। মাঝেমধ্যে আমাদের কোনাবাড়ী বাসী নামক ফেসবুক গ্রুপে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য রক্ত চেয়ে পোস্ট করা হতো। অনেকেই রক্তের জন্য অনেকে পেতো অনেক সময় পেতো না। এছাড়াও দেখা যেত অনেক সময় ডোনার হয়রানির স্বীকার হতো। আবার অনেক সময় গাড়ি ভাড়ার কথা বলে রোগীর লোকের থেকে টাকা নিয়ে নিতো প্রতারক চক্র। এসব বিষয় চিন্তা করেই আমাদের কোনাবাড়ি বাসী নামের ব্লাড ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু করে। যার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত হাজারের অধিক মানুষ রক্ত পেয়েছে।
আবু সায়েম আরও বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে মানুষ রক্ত শূন্যতায় ভুগে। সঠিক সময়ে রক্ত না পেয়ে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকেও অনেকে রক্তের সাহায্যের আবেদন জানান। সেসব রোগীদের রক্তপ্রদান করে থাকে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে রক্তের যোগান দেয়ার জন্য কোনাবাড়ি বাসী ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিটি সদস্য সদা প্রস্তুত থাকে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা মিলে এই গ্রুপ ছাড়াও রক্তদানের কয়েকশত গ্রুপ, পেইজ। এসব গ্রুপ-পেইজও বিভিন্নভাবে রক্ত প্রদানে সহায়তা করে মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন। গ্রুপের সদস্যরা কোনো ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছাড়াই নিজদের রক্ত দিয়ে ভালোবাসা পরিশোধ করছেন একে অন্যের মধ্যে। পাচ্ছেন অপার্থিব সব অনুভূতি।
