মিয়ানমার অভ্যন্তরে সেদেশের স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও মিয়ানমার জান্তা সরকারের মধ্যে সংঘর্ষ এখনও কমেনি। কয়েক দিন পর পর থেমে থেমে হামলা পাল্টা হামলার প্রভাব পড়েছে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায়।
গত কয়েক দিনে ব্যাপক গোলাগুলি এবং সীমান্ত ঘেঁষে ওপারে গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি বিমান থেকে গোলা বর্ষণ করার ঘটনাও চোখে পড়েছে সীমান্তের মানুষের।
যার কারণে নিরাপত্তা বিবেচনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সাময়িক ছুটি দেওয়ার একদিন পর পুনরায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তবে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। হঠাৎ স্কুল বন্ধ ও খোলার বিষয় অনেক শিক্ষার্থী জানে না।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে সীমান্তের ওপারে হালকা কয়েক রাউন্ড গুলির আওয়াজ শুনা গেলেও দুপুর দেড়টার দিকে কিছু দূরে মর্টারশেল নিক্ষেপের আওয়াজ ভেসে আসে এপাড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দূর থেকে ভেসে আসা গোলার শব্দ শুনলে শিশুরা দৌড়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। বয়স্করা হতচকিত হয়ে পড়লেও অধিকাংশ মানুষ আনন্দ উপভোগ করেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বিজিবি ও জনপ্রতিনিধিরা প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় সর্তক রয়েছে যাতে কোনো মায়ানমারের নাগরিক অনুপ্রবেশ করতে না পারে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ত্রিরতন চাকমা জানান সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় শিক্ষা কর্যক্রম চলছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম শাওন ও পশ্চিমকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন কলেন, তাদের স্কুলগুলো সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় গোলার শব্দ শুনলেই শিশুরা ভয় পান।
তাই গতকাল ছুটি দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম ছিল।
জানা গেছে, ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাড়ি এলাকার বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ৪টি সীমান্ত চৌকি ও ক্যাম্প রয়েছে মিয়ানমারের। যেখানে একসময় বিজিপি থাকলেও এখন ক্যাম্পগুলোতে সেনা উপস্থিতি রয়েছে জানান সীমান্তের লোকজন।
গত দুই বছর ধরে এসব ক্যাম্পে মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। তাদের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে এপারের জনজীবনে।
