সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু তার নবীনগরের কথায় হৃদয় খুঁড়ে কষ্ট কান্না তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন, বিটিভি থেকে ‘বাদ’ পড়ার পর সুরস্রষ্টা শেখ সাদী খান লিখেছেন- “বয়সটা কম হলে, এ ঘটনার পর দেশ ছেড়ে চলে যেতাম!”
তাঁর এ মনঃকষ্টের কথা পড়ে আমরা আদৌ ব্যথিত, লজ্জিত ও বিব্রতবোধ করছি কিনা- বিনীত জিজ্ঞাসায় সে কথা জানতে চেয়েছেন গৌরাঙ্গ দাদা।
নবীনগরের কথার ৩৪৯ তম পর্বের টকশোতে যুক্ত হয়ে আলোচকরা যে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন – সেসব শোনার দুর্ভাগ্য ছিল আমারও।
কিন্তু টকশোর সঞ্চালক গৌরাঙ্গ দাদা, আলোচক সুভাষ দাদাসহ সম্মানিতরা হয়তো একটা বিষয় ধারণাও করতে পারছেন না। তা হলো – সুর সাধক, অভাবনীয় প্রতিভাবান, বিশ্বখ্যাত গুণীজন শেখ সাদী খানের মতো ব্যক্তিত্বকে মর্যাদা দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে এ জাতি। আরো আগেই সবকিছু নষ্টদের দখলে চলে গেছে।
ইতিহাস, ঐতিহ্য, মর্যাদা, গৌরব সব,,, সব কিছু ছুঁড়ে ফেলে বাঙালি জাতি, জনগোষ্ঠী এমনকি আগামী প্রজন্মও শেকরহীন ফোবিয়ায় উন্মাতাল হয়ে আছে। এখন তারা দুর্গন্ধযুক্ত টিকটকের নোংরা আবর্জনায় মুখ গুঁজে দিনের পর দিন কাটাতে পারে, সব ধরনের জঘন্যতায় আয়েশি আনন্দ পায়, ধর্ষণের বর্বরতা তাদের যৌন তৃপ্তির খোরাক হয়,,, আরো আরো ঘৃণ্যতা পেয়ে বসেছে তাদের।
ধ্বংসপ্রায় জাতি এখন শেখ সাদীদের ছুঁড়ে ফেলে হিরো আলমদের খুঁজে নিয়েছে, নিজেদের স্ত্রী সন্তানদের রকেট গতিতে নষ্ট বানাতে লায়লা – মামুনদের অনুকরণীয় প্রতীকে মর্যাদাবান করেছে। ব্যক্তি আর সামাজিক পর্যায়েই নয়, এসবই লালিত হচ্ছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। এ কারণেই শেখ সাদীদের সরিয়ে বিটিভি নষ্টদের জন্য আসন গড়ে তোলে।
ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গুণীদের কদর থাকে না, সেখানে গুণীদের জন্মও হয় না। কিন্তু যে রাষ্ট্রে গুণীদের অসম্মান করা হয়, মর্যাদাহীন বানানো হয় – সেখানে গুণীরা বেঁচে থাকে কি না – সে ব্যাপারে কখনও কিছু শুনিনি। নিজে নিজে ধারণা করি, অপয়া রাষ্ট্রে গুণীরা হয়তো লাশ হয়েও বেঁচে থাকে। মরতে পারে না তাই বেঁচে থাকে।
