সাতক্ষীরার দেবহাটায় পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেবহাটা থানা পুলিশ। শিক্ষার্থীর নাম তৌফিক হোসেন (১২)। সে উপজেলার উত্তর সখিপুর গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ মাহমুদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে শোবার ঘরের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয় পরিবারের সদস্যরা। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্কুললছাত্র তৌফিক হোসেনের বড়বোন হোসনেয়ারা পারভীন জানান, তাদের তিন বোনের একমাত্র ছোট ভাই ছিল তৌফিক। এ বছর চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিল সে। মঙ্গলবার সকালে সে স্কুলে না যাওয়ায় বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে বকাঝকা করেছিল। এতে অভিমানে সকাল থেকে না খেয়ে নিজের শোবার ঘরে বসেছিল সে। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তৌফিকের ঘরের দরজা-জানালা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে চিৎকার শুরু করেন তারা।
এ সময় স্থানীয়রা এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বোনের ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তৌফিককে দেখতে পান। পরে তারা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিক দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ওসি সেখ মাহমুদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ ওই স্কুলছাত্রের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। তবে ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
