ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য
বিজ্ঞপ্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

পাবনায় বাড়ি ঘরে হামলা-ভাঙচুর; আহত ১২

এস এম আদনান উদ্দিন, পাবনা সংবাদদাতা
জানুয়ারি ৯, ২০২৪ ৬:৪২ অপরাহ্ণ
link Copied

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পাবনায় বেশকিছু বাড়িতে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার বেড়া ও চাটমোহর উপজেলায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পাবনার বেড়া উপজেলার ৮-১০টি বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৮ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার সকালে পাবনা-১ আসনের বেড়া পৌরসভা এলাকার সানিলা গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও আহত করার অভিযোগ ওঠে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ দুলাল অভিযোগ করেন, নৌকার প্রার্থীর জয় লাভের পর থেকেই পাবনা-১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সকালে সানিলা গ্রামে নৌকার সমর্থকরা বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা করে। এ সময় হামলায় একজন নারীসহ চারজন আহত হয়। আহতদের নাম জানা যায়নি।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আসিফ শামস রঞ্জনকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

পৈলানপুর, ছাইকোলা, লাঙলমোড়া ও চরনবীন গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ১০ জন সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় নৌকার সমর্করা। এর মধ্যে লাঙলমোড়া গ্রামের ইউসুফ আলী, ফজলুর রহমান, চরনবীন গ্রামের নাজমুল হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে নৌকার সমর্থকরা।


বহত

ছবি: পাবনায় বাড়ি ঘরে হামলা-ভাঙচুর; আহত ১২, প্রতিনিধি।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাইকোলা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান নুরু বলেন, ‘নৌকার সমর্থকরা বা আমার কোনো লোকজন কারো বাড়িতে হামলা করেনি। কারো বাড়ি ভাঙচুরের খবর জানা নাই। এমন কোনো ঘটনা আমার এলাকায় ঘটেনি।’

এদিকে, গুনাইগাছা ইউনিয়নের নতুনপাড়া ও পৈলানপুর গ্রামের ময়েজ মাষ্টার, হাসান মাষ্টার, বান্টুসহ কয়েকটি বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে ও সোমবার সকালে এসব হামলা হয়।

হামলায় নতুনপাড়া গ্রামের আমিন উদ্দিন, আহসান আলী, ময়নাল হোসেন, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আমুদ আলী আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আবুল কাশেম ও জিলালসহ কয়েকজনের দোকানপাট খুলতে দেয়নি হামলাকারীরা। ঘটনার পর এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
গুনাইগাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে সোমবার বিকেলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এছাড়া একই উপজেলার ফৈলজানা পবাখালী গ্রামে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নৌকার সমর্থকদের মারধরে আহত হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৪ সমর্থক। এর মধ্যে সালাউদ্দিন ও রুহুল আমিন লিংকন নামের ২ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক প্রতিকের পক্ষে নির্বাচন করায় ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে নৌকার সমর্থকরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ আহতদের।

এছাড়া ফৈলজানা গ্রামে সোমবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় আশরাফুল ইসলাম নামের নৌকার এক সমর্থক ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন বলা জানা গেছে। তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। রোববার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন নৌকার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে ছেলেপেলেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে এটুকু শুনেছি। সোমবার সকালে উঠে শুনি মারামারি হইছে। একজনকে চাকু মারছে। এর মধ্যে আমার ছেলেকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।