রবিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার বেড়া ও চাটমোহর উপজেলায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
সোমবার সকালে পাবনা-১ আসনের বেড়া পৌরসভা এলাকার সানিলা গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও আহত করার অভিযোগ ওঠে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
পৈলানপুর, ছাইকোলা, লাঙলমোড়া ও চরনবীন গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ১০ জন সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় নৌকার সমর্করা। এর মধ্যে লাঙলমোড়া গ্রামের ইউসুফ আলী, ফজলুর রহমান, চরনবীন গ্রামের নাজমুল হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে নৌকার সমর্থকরা।

ছবি: পাবনায় বাড়ি ঘরে হামলা-ভাঙচুর; আহত ১২, প্রতিনিধি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাইকোলা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান নুরু বলেন, ‘নৌকার সমর্থকরা বা আমার কোনো লোকজন কারো বাড়িতে হামলা করেনি। কারো বাড়ি ভাঙচুরের খবর জানা নাই। এমন কোনো ঘটনা আমার এলাকায় ঘটেনি।’
এদিকে, গুনাইগাছা ইউনিয়নের নতুনপাড়া ও পৈলানপুর গ্রামের ময়েজ মাষ্টার, হাসান মাষ্টার, বান্টুসহ কয়েকটি বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে ও সোমবার সকালে এসব হামলা হয়।
হামলায় নতুনপাড়া গ্রামের আমিন উদ্দিন, আহসান আলী, ময়নাল হোসেন, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আমুদ আলী আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আবুল কাশেম ও জিলালসহ কয়েকজনের দোকানপাট খুলতে দেয়নি হামলাকারীরা। ঘটনার পর এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
গুনাইগাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে সোমবার বিকেলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এছাড়া একই উপজেলার ফৈলজানা পবাখালী গ্রামে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নৌকার সমর্থকদের মারধরে আহত হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৪ সমর্থক। এর মধ্যে সালাউদ্দিন ও রুহুল আমিন লিংকন নামের ২ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক প্রতিকের পক্ষে নির্বাচন করায় ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে নৌকার সমর্থকরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ আহতদের।
এছাড়া ফৈলজানা গ্রামে সোমবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় আশরাফুল ইসলাম নামের নৌকার এক সমর্থক ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন বলা জানা গেছে। তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। রোববার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন নৌকার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে ছেলেপেলেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে এটুকু শুনেছি। সোমবার সকালে উঠে শুনি মারামারি হইছে। একজনকে চাকু মারছে। এর মধ্যে আমার ছেলেকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।
