ঢাকারবিবার , ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য
বিজ্ঞপ্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাঁথিয়া-বেড়ায় হাত বাড়ালেই মেলে চায়না দুয়ারী জাল

নিত্যবেলা প্রতিবেদক
জুলাই ৩১, ২০২৪ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
link Copied

বর্ষা মৌসুম শুরুতে পাবনার বেড়া-সাঁথিয়ার খালবিলে নদী-নালায় ঢুকেছে নতুন পানি। বেড়েছে দেশী মাছের আনাগোনা। আর এই সুযোগে অসাধু মৎস্য শিকারিরা নেমেছে এসব মাছ নিধনে। প্রতিদিন স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে মাছ। বিশেষ করে ছোট মাছ ও পোনা মাছ বিক্রি হচ্ছে বেশি। বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় হাত বাড়ালেই মিলছে নিষিদ্ধ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল। যত্রতত্র স্থাপন করা হয়েছে ছোট বড় অবৈধ চায়না জাল কারখানা। এসকল কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে ডিম থেকে শুরু করে সকল প্রকার মাছ ধরার ফাঁদ চায়না দুয়ারী। অবৈধ চায়না জাল তৈরী ও বিক্রেতাদের রয়েছে সমিতি। সমিতির কয়েক ডজন সদস্যসহ আছে সভাপতি সেক্রেটারি। স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনসহ বিভিন্নজনকে ম্যানেজ করে অবৈধ চায়না জাল তৈরী এবং বিক্রি করছেন তাঁরা।

উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তরের বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করাসহ করেছেন জেল জরিমানা এর পরেও থামছে না অবৈধ চায়না জাল ব্যবসায়ীরা। অসাধু চায়না জাল ব্যাবসায়ীরা বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জাল আদান প্রদান করে থাকে। সম্প্রতি বেড়া-সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসন কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মূল্যের জাল জব্দ করে সিলগালা জেল জরিমানাও করেছেন। এর পরও থামছে না জাল বিক্রি ও তৈরী।

সরেজমিনে বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম উত্তর মহল্লায় ঘুরে দেখা গেছে জেলে পাড়ার প্রতিটি বাড়িই যেন জাল তৈরীর কারখানা। তার মধ্যে জোনাপ আলী, ইদ্রিস আলী দোকানদার,ইসাক আলী, মনি আলী,ইশ্বর হলদার এর বাড়িতে দেখা যায় নারীরা লোহার লম্বা টেবিলে জাল পেঁচিয়ে লোহার রড পরিয়ে পুর্ণাঙ্গ জাল তৈরী করছে। এই অবৈধ চায়না জাল তৈরী যেন তাদের পেশায় পরিণত হয়েছে। বেড়া পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের বনগ্রাম উত্তর এলাকায় ৮ থেকে ১০ টি বাড়িতে প্রকাশে তৈরী হচ্ছে চায়না জাল। সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউরি ও নাগডেমরা ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামে রয়েছে দুয়ারী তৈরির কারখানা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা ছাড়াও দেশের কয়েকটি জেলায় চায়না জাল তৈরী ও বিক্রির জন্য ব্যপক পরিচিতি পেয়েছে বেড়া-সাঁথিয়া জাল। প্রশাসনের নাকের ডগায় বেড়া পুরাতন বাজারে দিনে রাতে চলে লক্ষ লক্ষ টাকার এই অবৈধ চায়না জাল বিক্রি।

স্থানীয়দের অভিযোগ চায়না দুয়ারি সাঁথিয়া-বেড়া উপজেলার খাল,বিল,নদী ছেয়ে আছে। এতে মারা পরছে দেশীয় কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, পুঁটি, রুই, কাতলা, মৃগেল ও ঘৈন্না মাছের পোনা ডিমসহ ধ্বংস করা হচ্ছে। গত তিন চার বছর যাবৎ এ চায়না দুয়ারি আসার ফলে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে গেছে। অন্য জালের চেয়ে কম পরিশ্রমে চায়না দুয়ারী জালে অধিক পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়। ফলে জেলেদের কাছে কদর বেড়েছে চায়না দুয়ারী জালের। জেলেরা এখন মাছ ধরতে কারেন্ট জালের পরিবর্তে ঝুঁকছেন চায়না দুয়ারী জালের দিকে। এ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জলজ জীব বৈচিত্র হুমকির সম্মুখীন হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জলজ জৈববৈচিত্রের জন্য চায়না দুয়ারী জাল বা মাছ ধরার এ ফাঁদ কারেন্ট জালের চেয়েও ক্ষতিকর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেড়ার কয়েকজন ব্যাক্তি জানান, প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকে তাদের ম্যানেজ ও নিয়মিত মাশুয়ারা দিয়ে করছে এই অবৈধ ব্যবসা। বছরে দুএকবার নামে মাত্র অভিযান চালায় প্রশাসন। এখনই যদি চায়না ধোয়াইর এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের নতুন প্রজন্ম আমিষের চাহিদা পূরন থেকে বঞ্চিত হবে।

এ বিষয়ে বেড়া বাজারের চায়না জাল ব্যবসায়ী সুধাংশু হলদারের সাথে মুঠোফোনে ক্রেতা হয়ে বানিজ্যিক ভাবে ব্যবসায়ীক আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে জাল বিক্রির কথা স্বীকার করে জানান, ভাই আমাদের কাছে সব ধরনের জাল আছে আপনি আসেন দেখে দামদর করে জাল নিয়ে যান। কথার ফাঁকে প্রশাসনের কোন ভয় আছে কি না এ বিষয়ে তিনি জানান, আপনি ট্রাক ভরে মাল নিয়ে যাবেন কোন সমস্যা নেই বেড়া আমি পার করে দিব প্রশাসন সাংবাদিক সব ম্যানেজ করা আছে। আপনার যত টাকার জাল লাগে আমরা দিতে পারবো কোন সমস্যা নেই।

বেড়ার কারখানার মালিক ইশ্বর হলদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জাল তৈরী এবং বিক্রির বিষয়ে স্বীকার করে জানান, আমরা ছোট ব্যাবসায়ী আমরা বাইরে থেকে জাল এনে কারিগর দিয়ে লোহা শিক ভরার কন্ট্্রাক নেই এতে খুব বেশি লাভ হয় না। এই জাল বিক্রির কোন অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব কাজ সবাইকে ম্যানেজ করেই করতে হয়।

বেড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.নাসির উদ্দিন কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৎস্য আইনে চায়না জাল, কারেন্ট জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অবৈধ। চায়না জালসহ সবধরণের অবৈধ জালের বিষয়ে আমাদের কড়াকরি নজরদাড়ি থাকে। বেশ কয়েকটি অভিযানে প্রচুর পরিমান চায়না জাল জব্দ করে ধংস করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উঠান বৈঠক করে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও অবৈধ চায়না দুয়ারী দিয়ে মাছ শিকারকারীদের সতর্ক করা হবে। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোরশেদুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে চায়না জালের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমান চায়না জাল জব্দ করে ব্যবসায়ী ও কুরিয়ার সার্ভিস মালিকদের জেল জরিমানাও করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।