গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিজমি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে মাওনা ইউনিয়নের ভেরামতলী গ্রামের তারুবিথী পিকনিক স্পটে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মাটি ব্যবসায়ীদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে “বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০” এর ৭(ক) ও ১৫ (১) ধারায় তাদের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আরিফ বেপারী । (৪০) এবং মঞ্জুরুল ইসলাম (২৮), যাদের বাড়ি গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে।
এর আগে, ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে একই স্থানে অভিযান চালিয়ে এক্সভেটরসহ ১২টি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয় এবং চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে প্রশাসন ফের অভিযান চালায়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাহার শাকিল জানান, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কৃষিজমি ও জলাধার সংরক্ষণের জন্য এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”
এদিকে, গাজীপুর জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর নির্দেশে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। অভিযানে সহায়তা করেন শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান, মাওনা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. হুমায়ূন, রাথুরা বিটের ফরেস্ট অফিসার মো. এমদাদুল হক এবং শ্রীপুর রেঞ্জের অন্যান্য স্টাফ।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, “বনের পাশে এত বড় গর্ত খনন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ডাম্পার দিয়ে বনের রাস্তা ব্যবহার করায় বন, পরিবেশ এবং আশপাশের কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। আমরা মাটি কাটা বন্ধ করেছি এবং ডিমার্কেশনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
