নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রবীণ রাজনীতিক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ রাজনীতিকের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
৮৩ বছর বয়সী এই সাবেক মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগ, স্মৃতিভ্রংশসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি বাসার বাথরুমে পড়ে গিয়ে তাঁর একটি পা ভেঙে যায়। বর্তমানে লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করছেন তিনি। হৃদযন্ত্রে পাঁচটি রিং প্রতিস্থাপন করা হয়েছে আগেই। পরিবারের ভাষ্য, নিজের সন্তান ও ঘনিষ্ঠজনদেরও তিনি এখন আর চিনতে পারেন না।
রাজনৈতিক অঙ্গনে একসময় সক্রিয় থাকা এই প্রবীণ নেতা ২০২৪ সালের পর থেকেই রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অনুরোধ সত্ত্বেও সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি।
তবে অসুস্থতা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা সত্ত্বেও মামলা থেকে মুক্তি মিলছে না মোশাররফ হোসেনের। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, উচ্চ আদালত থেকে ১১টি মামলায় জামিন পেলেও নতুন মামলায় তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এতে শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় মানবিক বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁর বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় আইনি প্রক্রিয়ায় কিছুটা সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।
ঢাকা বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, “এ ধরনের প্রবীণ ও অসুস্থ নাগরিকদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উচিত মানবিকতা দেখানো।”
আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, প্রশাসনকে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, মানবিকতা ও ন্যায়বিচার যদি একসাথে চলে, তবেই গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হয়। এ পরিস্থিতিতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার।
